শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ, ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি, ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা।

হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ, ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দুটি উপজেলার তিন ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধটি ভেঙে প্রবল পানির স্রোত প্রবাহিত হয়। এর ফলে লস্করপুর ও পইল ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার লামাতাসি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় বসতঘর, মাছের ঘের, ফসলি জমি, শাকসবজির ক্ষেত, পোল্ট্রি খামার ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, যা কৃষক, মৎস্যচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে অনেকে গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছেন।

হবিগঞ্জ-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ।

প্রাথমিক হিসাবে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০ হেক্টর আউশ ধান, ৫০ হেক্টর শাকসবজি এবং ৮ হেক্টর ফলের বাগান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং বানভাসিদের জন্য শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবর্তে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

লস্করপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও পাশের পইল ও বাহুবল উপজেলার লামাতাসি ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকায় প্রবেশ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাঁধের কাজে অনিয়মের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মাকসুদুল আলম বলেছেন, ‘বাঁধ ভাঙার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠাব।’

বিজ্ঞাপন