বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
সোমবার রাত থেকে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যা উজানের ঢল ও ভাটিতে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুড়িগ্রামে তিস্তার পাশাপাশি দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও বাড়ছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, ফলে অনেক কৃষক তাদের অপরিপক্ক ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন।
বন্যাপূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী উদয় রায়হান জানিয়েছেন, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় সতর্ক সীমা অতিক্রম হতে পারে। এর ফলে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীও সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, ১৯ জুন থেকে সিলেট ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ খন্দোকার হাফিজুর রহমান বলেন, সিলেট–ময়মনসিংহ অঞ্চলে আগামী দুই দিন বেশি বৃষ্টি হবে, যা রংপুর অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ু দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও সাগরের শান্ত অবস্থার কারণে সারা দেশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে না।