মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা চুক্তি হলে সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা সরকারের কাছে এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা এককভাবে মালয়েশিয়াকে না দেওয়ার জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের ফলে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করার পরই বাজার খুলতে পারে। বর্তমানে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে।
২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। এর মধ্যে ৮ হাজার কর্মী পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন, তবে এখনও প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের যাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
২০২১ সালের চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে এবং নবায়নের জন্য যৌথ কারিগরি কমিটি পুরনো চুক্তি পর্যালোচনা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ চাইলে রিক্রুটিং এজেন্সির শ্রেণিবিন্যাস করতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, "আমাদের শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। যদি কোনো অনিয়ম হয়, মালয়েশিয়া তখন বলবে যে, তোমরা নিজেদের শর্তে বাছাই করেছ, তাহলে কেন সমস্যা হচ্ছে।" তিনি দুই দেশের মধ্যে দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান জানান, "মালয়েশিয়ার বাজারে কর্মীদের দ্রুত যাওয়ার ঘোষণা না দিয়ে, বর্তমান এমওইউ-এর সংকট সংস্কারের প্রয়োজন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশকে দৃঢ় থাকতে হবে।"
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পূর্বে অনিয়মের সঙ্গে রাজনৈতিক কাঠামো জড়িত ছিল, যা আবারও ঘটলে বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।