সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

লালমনিরহাটে তিস্তায় পাহাড়ি ঢলে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাটে তিস্তায় পাহাড়ি ঢলে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তায় পাহাড়ি ঢলে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদী আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। এতে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক। বাদাম, সবজি সহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ২৮ জুন রাতে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা কমেছে।

বিকেল ৩টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোয় এখনও পানির টান কমেনি।

গতকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পায়। রাজপুর, খুনিয়াগাছ, ডাউয়াবাড়ি, গড্ডিমারী, ভোটমারী ও মহিষখোচা এলাকায় নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে ঘরে পানি ঢুকে গেছে। রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক সোলেমান মিয়া জানান, নদীতে পানি আসায় তার খেতের সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভাঙনের মুখে পড়েন। তাদের দাবি, নদী খনন ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি এভাবে ওঠানামা করছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন