বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই চুক্তিটি উত্তরবঙ্গের টেকসই ও কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আরডিএ পরিচালিত রুরাল ইকো-ট্যুরিজম প্রোগ্রাম প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা বাস্তবায়নের নতুন গতি ও পরিসর অর্জন করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের গ্রামভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বৃদ্ধি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কমিউনিটিভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন আরডিএর মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন রুরাল ইকো-ট্যুরিজম প্রোগ্রামের ফোকাল পারসন ড. মাকসুদুল আলম খান। প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র পর্যটন ব্র্যান্ড ‘উত্তরাভিযান’ গড়ে তোলা হয়েছে।
এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কৃষিনির্ভর জীবনধারা এবং স্থানীয় জনগণের জীবনচিত্রকে পর্যটনের মূল আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ‘ডাহুক’।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জনাব মাগফি রেজা সিদ্দিক প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা উত্তরবঙ্গকে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বমানের গ্রামীণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শুধু পর্যটন খাতের বিকাশই নয়, বরং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।