বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা দেওয়ার পরও হামের সংক্রমণ কমছে না, যার প্রধান কারণ হচ্ছে অপুষ্টি। পুষ্টিহীনতা শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে বাধা দিচ্ছে, ফলে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি শিশুর হামের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর শিশু ও ডিএনসিসি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ শতাংশ রোগীর বয়স ১০ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। এ অবস্থায়, সরকার ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬ হাজারের বেশি, এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০ ছুঁই-ছুঁই।
বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ কোটি ৮২ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হলেও, সংক্রমণ কমেনি। অধ্যাপক ডা.মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, “অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না।”
ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন শুরু হবে ২৮ জুন, যেখানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা.মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, “২০২৬ সালের প্রথম রাউন্ডটি আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়িত হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.জাহিদ রায়হান বলেন, “আমরা ক্যাপসুলটি আক্রান্ত এবং অনাক্রান্ত শিশুদের সবাইকে খাওয়াবো।” তিনি জানান, “অপুষ্টির কারণে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই পুষ্টিহীন।”
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, যেসব শিশুকে হামে আক্রান্ত অবস্থায় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে, তাদের এবার ভিটামিন দেওয়া যাবে না।