বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হয়েছেন। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শহরের শেরপুরস্থ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে, দুপুর সোয়া ২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হারুন আল রশিদের তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাকারিয়া। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় প্রয়াত নেতার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
হারুন আল রশিদের বড় ছেলে কানাডা প্রবাসী চিকিৎসক আসিফ হারুন পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। জানাযা শেষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলের স্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত রোগে মারা যান তিনি। পরদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তার দু'দফা নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জাগদল দলে যোগদান করে হারুন আল রশিদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৭৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ত্রাণ ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।