সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

বেনজীর আহমেদের বিলাসী জীবন ও বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান

বেনজীর আহমেদের বিলাসী জীবনযাপন ও বিপুল সম্পদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে।

বেনজীর আহমেদের বিলাসী জীবন ও বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিলাসী জীবনযাপন ও বিপুল সম্পদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। রাজধানীর গুলশানে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট এবং মাদারীপুরে ২৫৮ বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে তার।

বেনজীর আহমেদ, যিনি একসময় দেশের অন্যতম ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, ডিএমপি কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপির পদে অধিষ্ঠিত হন। তবে তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট একত্র করে একটি বিশাল ডুপ্লেক্স আবাসন গড়া হয়েছে। সেখানে রয়েছে সুইমিং পুল, মিনি থিয়েটার এবং বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি সামগ্রী। আদালতের নির্দেশে জব্দ তালিকায় ১৯টি ফ্রিজ, ১০০ টন এসি, ৭২২টি টি-শার্ট, ২৬৬টি প্যান্ট, ২২৪টি পাঞ্জাবি, ১২২টি শার্ট, ৩০টি ব্লেজার ও ৮টি স্যুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, বেনজীর আহমেদের নামে মাদারীপুরের রাজৈরে প্রায় ২৫৮ বিঘা জমির তথ্য পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক দলিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি, গোপালগঞ্জে একটি রিসোর্ট প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী এবং দুই কন্যার নামে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে অন্তত ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ৮টি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ মালিকানা এবং ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে প্রায় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামে প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী, বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের ভেতরের সম্পদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান চলছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন