সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তার ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে হয়েছে। গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ মেইলের মাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন।"
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতি। দুদক দাবি করেছে, তার বিরুদ্ধে ৭৬ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর দুদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চায়। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করে, যার ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বন্দি প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে হবে। এনসিবি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশকে এই সময়সীমার কথা জানিয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের হেফাজতে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীরকে দেশে এনে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।