শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

দুবাইয়ে আটক বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে

দুবাইয়ে আটক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে।

দুবাইয়ে আটক বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুবাইয়ে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই বেনজীরকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে সে দেশের সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে মোট ৬টি মামলা চলমান, যার একটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন। আগামীকাল এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়া হবে।

তিনি জানান, বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএ) মাধ্যমে ইতোমধ্যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যেকোনো মন্ত্রণালয়ের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোহাম্মদপুরের পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে এবং রাতারাতি এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এই এলাকা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২৩ জুনকে টার্গেট করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, সেজন্য অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া দল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক করা হয় বেনজীর আহমেদকে। একদিন পর বিষয়টি জাতীয় সংসদকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেদিনই বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সেদেশের আদালত বিচার-বিশ্লেষণ করে বেনজীরকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশে থাকা তার ৬২১ বিঘা জমি ও খামার, গুলশানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং সাভানা ইকো রিসোর্ট বর্তমানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এছাড়া, আমেরিকার নিউইয়র্কে তার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ইতোমধ্যেই জব্দ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার ব্যাংকে থাকা তার নগদ অর্থও আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুবাইয়ে বেনজীরের বিপুল বিনিয়োগের খবর আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় রয়েছে। রিয়েল এস্টেট থেকে হোটেল ব্যবসা, সবখানেই তার বেনামি বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন