সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ জরুরি

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ জরুরি

দেশে স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তবে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম মালিক, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠনগুলোর মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শনিবার (১৩ জুন) মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব মতামত উঠে আসে। ডেনমার্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা, সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখা এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে।

এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠনই গণমাধ্যম সংস্কারের প্রথম ধাপ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার তার নির্বাচনি অঙ্গীকারে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গঠনের কথা বলেছে এবং সেই লক্ষ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খণ্ডিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভক্ত। পাশাপাশি সাংবাদিক সুরক্ষা, কর্মপরিবেশ, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং গণমাধ্যমের প্রতি জন-আস্থার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় একটি স্বাধীন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সারা হোসেন আরও বলেন, কমিশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, যাতে সাংবাদিকতা পেশা নিজস্ব নৈতিক ও পেশাগত মানদণ্ড নির্ধারণ ও অনুসরণ করতে পারে। কমিশনের সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরনের কমিশন তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে, যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, ডিডব্লিউ অ্যাকাডেমির জিমি আমিরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা সবাই একটি স্বাধীন, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন