ফুটবল বিশ্বকাপ, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মেগা ইভেন্ট, এবার তিনটি দেশ, ১৬টি শহর ও ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ফিফার আনুমানিক আয় হবে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত কাতার বিশ্বকাপের আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা।
ফিফার এই বিপুল আয়ের মূল উৎস হচ্ছে টিকিটের দাম। এবারই প্রথম ফিফা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং অ্যালগরিদম’ চালু করেছে, যার ফলে টিকিটের দাম চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে। ২০১৮ সালে ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫০ ডলার, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৬৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
টিকিটের পাশাপাশি ভ্রমণ ও হোটেলের খরচও বেড়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার ট্রেনের ভাড়া ম্যাচ ডে-তে ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় সাত গুণ বেশি।
বিশ্বকাপের পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। গবেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৫০ থেকে ৯০ লক্ষ টন হতে পারে, যা ২০১৮ বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বেশি।
এছাড়া, খেলোয়াড়দের জন্যও এই বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জিং। অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার ফলে অনেক খেলোয়াড় ইনজুরির শিকার হচ্ছেন। ব্রাজিল ইতোমধ্যে তাদের তিন তারকা ফুটবলারকে হারিয়েছে, যা বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ফিফার ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ছে, কিন্তু সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা তাদের পকেট থেকে এবং খেলোয়াড়রা নিজেদের শরীর দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করছেন। এবারের বিশ্বকাপের সফলতা কতটা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।