শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাজেট চ্যালেঞ্জ: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও ঋণ পরিশোধের সংকট

মূল্যস্ফীতির চাপে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ। বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জ।

বাজেট চ্যালেঞ্জ: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও ঋণ পরিশোধের সংকট

মূল্যস্ফীতির চাপে সীমিত আয়ের মানুষ জীবনযাপন করছে দুর্বিষহ। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং সংকটের কারণে আরও দরিদ্র হচ্ছে জনগণ। সমীক্ষা অনুযায়ী, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৪ শতাংশের উপরে। সরকার এবারের বাজেটে এই হারকে ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে কাগজে-কলমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এনবিআর একাই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রেখেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ মন্তব্য করেছেন, দেশে করদাতার সংখ্যা মাত্র কোটিখানেক। অটোমেশন না হওয়ার কারণে অনেক ট্যাক্স-ভ্যাট সরকারের খাতে যাচ্ছে না। এটি সমাধান করা গেলে রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে করজালের আওতা বাড়েনি। ফলে কিছু সংখ্যক করদাতার ওপর চাপ বেড়ে গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের চাপ অব্যাহত থাকবে।

এবারের বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে গেলে সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিজ্ঞাপন