নতুন অর্থবছর থেকে ব্যাংক হিসাব খুলতে ব্যক্তির কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বরও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়ম কার্যকর হলে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা কমবে এবং ব্যাংকের বাইরে আর্থিক লেনদেন বাড়বে, যা ক্যাশলেস সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। টিআইএন ছাড়া বিদ্যমান হিসাবও সচল থাকবে না। তবে শিক্ষার্থী, ভাতাভোগী ও কর অব্যাহতি প্রাপ্তরা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং নানা শর্ত আরোপ করা হলে নিম্নআয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং আওতায় আনা কঠিন হবে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "সব দায়িত্ব শুধু ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দিলে সাধারণ ভোক্তারা উৎসাহ হারাতে পারে।"
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, "বিষয়টি এখনই বাধ্যতামূলক না করাই ভালো। তবে টিআইএন থাকলে অ্যাকাউন্টধারীরা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পেতে পারেন।" এজন্য একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে আবগারি শুল্কে। বর্তমানে ৩ লাখ টাকা ব্যাংক স্থিতির ওপর কোনো আবগারি শুল্ক নেই, যা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।