ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘উপহাসমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবার রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মহারাষ্ট্রের সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক নেতৃত্ব দেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে এক মাসব্যাপী ধারাবাহিক আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
সমাবেশে ভারতের খ্যাতনামা পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যোগ দেন। বক্তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় ‘নিট-ইউজি ২০২৬’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন।
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন, অভিযোগ করে যে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সাথে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে সিজেপি তাদের ৫ দফা ‘শিক্ষা ইশতেহার’ প্রকাশ করে এবং পুনে থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি জয়পুর, লক্ষ্ণৌ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ হয়ে আগামী ২০ জুন পুনরায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল অবস্থান ধর্মঘটের মাধ্যমে শেষ হবে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একদল ভুয়া সনদধারী ও কর্মহীন তরুণকে সমাজের ‘তেলাপোকা’ বা পরজীবীর সাথে তুলনা করেছিলেন। এই মন্তব্যের কারণে ভারতের বেকার যুবসমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্যারোডি পেজ খোলে, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।