মার্কিন জ্বালানি দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় আগামী জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বলেছে যে জুন ও জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই দাম প্রায় ৯১ ডলারের কাছাকাছি, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পূর্বাভাসের ভিত্তি হচ্ছে যে আগামী কয়েক সপ্তাহে তেল পরিবহন সীমিত থাকবে এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ও মজুত কমে যাবে, যা বাজারে চাপ বাড়াতে পারে।
মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের গড় দাম প্রায় ১০৪ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে।
এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, গ্যাসোলিনের দামও সামান্য বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে গড় দাম হতে পারে ৩.৯০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৩.৬৪ ডলার। পূর্ববর্তী পূর্বাভাসে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩.৮৮ এবং ৩.৬২ ডলার।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে, ইআইএ বলেছে যে জ্বালানির দাম আরও বেশি হতে পারত, তবে বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল উৎপাদন সামান্য বাড়তে পারে। বর্তমানে উৎপাদন ১৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল হলেও তা বেড়ে ১৩.৭ মিলিয়ন ব্যারেল হতে পারে।