রাজধানীর মিরপুরে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সদস্য ও ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত হাদিস রহমানকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ির ছাদ থেকে ৪২টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে চশমা পড়া হনুমান, রাজধনেশ, ব্যারেড ঈগল প্যাঁচা ও গন্ধগোকুল। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাদিস পাখির ব্যবসার আড়ালে প্রাণী পাচার করছিলেন।
গভীর বনাঞ্চলে পাওয়া এই প্রাণীগুলোর মধ্যে চশমা পড়া হনুমান, যা সিলেট ও চট্টগ্রামের গহীন বনে বাস করে, বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। রাজধানীর মিরপুরের ওই বাড়ির ছাদে রাজধনেশসহ অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকা পড়ে ছিল।
বন বিভাগের অভিযানে আরও জানা যায়, হাদিস রহমান কবুতর পোষার জন্য গুদামটি ভাড়া নিয়েছিলেন, তবে সেখানে বন্যপ্রাণী বিক্রি করছিলেন। সোমবার চট্টগ্রামের চুনতি থেকে ১২টি কচ্ছপ ও হনুমানসহ তাকে আটক করা হয়।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম কুমার মল্লিক জানান, হাদিস আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ জনের মধ্যে অন্যতম। তাদের যোগাযোগের মাধ্যম দুটি ফোন নম্বর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
গবেষকরা বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, 'সরকারকে বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।'
উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো আপাতত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং সুস্থ হলে সাফারি পার্কে ও প্রকৃতিতে মুক্ত করা হবে।