শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্বে আতঙ্ক, স্থায়ী সমাধানের দাবি

শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব অব্যাহত, স্থানীয়রা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্বে আতঙ্ক, স্থায়ী সমাধানের দাবি

শেরপুর সীমান্তে মানুষের সাথে হাতির দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই গহীন বন থেকে বন্যহাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। স্থানীয়রা মশাল ও ঢাক-ঢোল নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য।

শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে শতাধিক হাতির দল ধান ক্ষেত ও সবজি বাগানে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত ৩০ বছর ধরে এই দ্বন্দ্বে প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছেন কৃষক ও হাতিরাও।

স্থানীয়রা জানান, মশাল জ্বালিয়ে ও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করা হলেও, তেল সংকটের কারণে জেনারেটর বা সার্চ লাইট চালাতে না পারায় তাদের সমস্যা বাড়ছে। শেরপুর সাঈনের নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘পাহাড়ে আবাসন ও খাদ্য সংকটই হাতিদের লোকালয়ে টেনে আনছে। বন্যপ্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি ও অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে হবে।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এসবি তানভীর আহমেদ ইমন জানিয়েছেন, সংকট সমাধানে বন বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারিভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ নেব।’ বন বিভাগ জানিয়েছে, হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারকে ৩ লাখ এবং ফসলের ক্ষতির জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের চাওয়া, হাতিরা গহীন বনেই নিরাপদ থাকুক এবং মানুষ শান্তিতে বাস করুক।

বিজ্ঞাপন