শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলে ৫টি রোপওয়ে নির্মাণ

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য ৫টি রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলে ৫টি রোপওয়ে নির্মাণ

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে সড়ক পারাপারে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুহার কমাতে ৫টি রোপওয়ে (রজ্জুপথ) নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। এই রোপওয়ে ব্যবহার করে বানর, হনুমানসহ গাছে বসবাসকারী প্রাণীরা নিরাপদে মহাসড়ক পার হতে পারছে।

বন বিভাগ জানায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক মধুপুরের বনাঞ্চলকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। খাবারের সন্ধানে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল, গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন প্রাণী মারা যায়।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুহার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, "এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই গাড়ি চলাচল করে। বনের এখানে পর্যটক ও পথচারীদের দেওয়া খাবারের আশায় প্রায়ই বানর-হনুমান মহাসড়কে নেমে আসে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রোপওয়ের ব্যবহার বাড়লে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা কমবে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, "বনাঞ্চলের এ অংশ দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই বানর-হনুমান ও নিশাচর প্রাণী মারা যায়।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও অনেক চালক তা মানেন না। তাই গাছে বিচরণকারী প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একসময় প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বহু বন্যপ্রাণী অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন