রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল মার্কিন সামরিক সহায়তার চুক্তির চেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করছে

ইসরায়েল মার্কিন সামরিক সহায়তার চুক্তির চেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করছে, প্রয়োজন ১০ বিলিয়ন ডলার।

ইসরায়েল মার্কিন সামরিক সহায়তার চুক্তির চেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করছে

ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক সহায়তা চুক্তির আওতায় পাওয়া অর্থের চেয়েও কয়েক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার আদেশ দিয়েছে। এই অস্ত্রের মূল্য পরিশোধ করতে ২০২৮ সালের পর অতিরিক্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের আগে থেকেই দেওয়া অস্ত্রের ক্রয়াদেশগুলোর বিপরীতে এই অর্থ প্রয়োজন হবে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি নথির বরাতে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত ইসরায়েলের যেসব অস্ত্রের ক্রয়াদেশ বকেয়া ছিল, সেগুলোর হিসাবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সামরিক সহায়তা চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার পরও এই অর্থের প্রয়োজন হবে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। তার এই ঘোষণায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের কর্মকর্তাসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায়, ইসরায়েল প্রতিবছর ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন পেয়ে থাকে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য পায় আরও ৫০ কোটি ডলার। ২০২৮ সালে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চুক্তির বাকি দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের বকেয়া সব অস্ত্রের ক্রয়াদেশের মূল্য পরিশোধের জন্য এই অর্থ যথেষ্ট নয়।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রোর কার্যালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে ইসরায়েলের সামরিক অর্থায়নসংক্রান্ত দায়দেনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বকেয়া অর্থের দায় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা, ইসরায়েলের নিজস্ব সরকারি তহবিল অথবা উভয় উৎসের সমন্বয়ে মেটানো যেতে পারে।

কাস্ত্রো বলেন, ‘২০২৮ সাল পর্যন্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ পূর্ণ হলেও এর বাইরেও আরও ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। আর সেই অর্থ কে পরিশোধ করবে, সেটিই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’

বকেয়া ক্রয়াদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো আরও ২৫টি 'এফ-৩৫' স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা। ২০২৪ সালের জুনে, এসব যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, আগামী এক দশকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মার্কিন সহায়তা দ্রুত বন্ধ করা হলে দেশটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের ওপর ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক নির্ভরশীলতার বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যাবে। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে বিপুল পরিমাণ বোমা ও অন্যান্য গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন