বিশ্বকাপে মিশরের ঐতিহাসিক সাফল্যের নায়ক ছিলেন কোচ হোসাম হাসান। তার অধীনে, মিশর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয় এবং নকআউট পর্বে খেলার স্বাদ পায়। এই সাফল্যের পর, ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার ওপর আস্থা রাখার ঘোষণা দিয়েছিল মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
কিন্তু শনিবার (৭ নভেম্বর) মাত্র দুই মাসের মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও বরখাস্তের নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে জাতীয় দলের ‘ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতা’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও কোন ঘটনার কারণে এমন সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিশ্বকাপের পর থেকেই হোসাম হাসান ব্যক্তিগত জীবন ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিতর্কের মুখে ছিলেন।
হোসাম হাসানের বিতর্কের সূত্রপাত আগস্টের শেষ দিকে পারিবারিক বিরোধের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। এরপর ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) বাছাইপর্বে দলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর, অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর কোচ ও তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহর মধ্যে বিরোধের খবর সামনে আসে। এ বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায় যে, সালাহকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাংবাদিক আহমেদ আবদেল বাসেতের দাবি, ড্রেসিংরুমে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
অক্টোবরে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের বিদায়ের পর রেফারির ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করে মন্তব্য করার জন্য তাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা। নভেম্বরের শুরুতে, পারিবারিক বিরোধের কারণে তাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
হোসাম হাসানের বিদায়ের ঘটনায় পরিহাস রয়েছে। তার অধীনে মিশর বিশ্বকাপে সাফল্য পেয়ে ছিল, কিন্তু মাঠের বাইরের বিতর্কে সেই অর্জনের ইতিবাচক প্রভাব ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নতুন কোচ আলি মাহেরের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা একটি দলকে ধরে রাখা এবং আফকনের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।