যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। তবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেগসেথের ইরান যুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের জন্য এই যুদ্ধকেও দায়ী করা হচ্ছে। এদিকে, কংগ্রেস থেকে বিদায় নিতে যাওয়া এক রিপাবলিকান সদস্য আগামী সপ্তাহে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব তোলার হুমকি দিয়েছেন।
হেগসেথ ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। এসব করে কোনো লাভ হবে না।” অন্যদিকে, মার্কো রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে তিনি বলেন, “আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি।”
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পদত্যাগের গুঞ্জনকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। তবে, হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হয়েছে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন, তবে তাকে দায়িত্বে রাখার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও হেগসেথের প্রশংসা করেন তিনি।
এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের পাশাপাশি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ও সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও সরানোর কথা বিবেচনা করা হতে পারে।
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া উচিত প্রেসিডেন্টের।
হেগসেথ নিজের ভিডিও বার্তায় অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘ভিত্তিহীন অভিশংসন প্রস্তাব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিলের কাজ হয়েছে।