বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। আইন দুটি হলো— ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’。
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ দফার অধীনে জারি করা অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায়ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উদ্যোগে তৈরি খসড়াটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো হিসেবে ২০০৬ সালে প্রণীত ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন’ এ পর্যন্ত ছয় দফায় সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে আইনটিতে পরিবর্তন আনা হয়।
দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা চালুর বিধান রাখা হয়েছে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী, অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা বিধান আইনে পরিণত করতে তা জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।