অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলে গ্রাহকদের জন্য অভিযোগ করার কিছু পথ রয়েছে। সম্প্রতি অনেক ক্রেতা নিম্নমানের পণ্য, অগ্রিম টাকা নিয়ে বিক্রেতার উধাও হয়ে যাওয়ার মতো নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫২,৪৫৯টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩১,৯৭০টি অভিযোগই ই-কমার্স সম্পর্কিত। অর্থাৎ, মোট অভিযোগের ৬১ শতাংশই অনলাইন কেনাকাটার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের মধ্যে ক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩,৮৬৯ কোটি টাকা। প্রতারণার কৌশলও বদলাচ্ছে, যেমন পরিচিত ব্র্যান্ডের নামে ফেসবুক পেজ খুলে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর ১৬১২১। অভিযোগ জানাতে হলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৬০ ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
অভিযোগের সঙ্গে পণ্য কেনার রসিদ, অর্ডারের স্ক্রিনশট, বিক্রেতার পেজের লিংক, কথোপকথনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা আবশ্যক। অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়ানি আদালতে টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ অনুযায়ী, বিক্রেতাদের অবশ্যই পণ্যের বিবরণ, মূল্য ফেরত এবং ডেলিভারি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। সরকারের উদ্যোগে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ও ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায় শৃঙ্খলা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। অপরিচিত পেজে অস্বাভাবিক কম দামের অফার দেখলে সতর্ক থাকতে হবে এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত।