বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

সীমান্তের সৈনিকদের পরিবার: নীরব ত্যাগের ইতিহাস

সীমান্তে সৈনিকদের পরিবারগুলোর নীরব ত্যাগের ইতিহাস ও তাদের সংগ্রামের গল্প।

সীমান্তের সৈনিকদের পরিবার: নীরব ত্যাগের ইতিহাস

দেশের নিরাপত্তা সীমান্তে দেখা যায় না বরং তা প্রতিফলিত হয় পরিবারের অভাব-অনুপস্থিতিতে। সৈনিকরা যখন দেশের দুর্গম সীমান্তে প্রহরায় থাকেন, তখন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জীবনে চলে আসে শূন্যতা। সন্তানের জন্মদিনে বাবার জন্য খালি চেয়ার, বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীর নিঃসঙ্গতা, এসবই সীমান্তের সৈনিকদের পরিবারের বাস্তবতা।

বাংলাদেশের সীমান্তে অনেক সৈনিক কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন নিজেদের ছোট ছোট আনন্দ এবং স্বপ্ন বিসর্জন দেন। মা, স্ত্রী, এবং সন্তানেরা তাঁদের প্রিয়জনের নিরাপত্তার জন্য অপেক্ষা করেন, যা কখনো কখনো দীর্ঘ সময়ের জন্য চলে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের পূর্ব লক্ষাছড়া বিওপির আশপাশে জনবসতি নেই। এই দুর্গম কর্মস্থলে সৈনিকদের বিচ্ছিন্নতা এবং সীমিত যোগাযোগের কারণে তাঁদের পরিবারগুলোর জীবনও কঠিন হয়ে পড়ে।

মায়ের উদ্বেগ, স্ত্রীর একাকিত্ব এবং সন্তানের অভিমান মিলিয়ে গড়ে ওঠে ত্যাগের একটি ইতিহাস। মায়েরা সন্তানদের দেশের জন্য দায়িত্ব পালনের সাহস জোগান, যদিও তাঁদের নিজেদের আবেগ চাপা দিতে হয়।

স্ত্রীরা সংসারের সব দায়িত্ব একা সামলান, স্বামীদের অনুপস্থিতিতে। স্বামী না থাকলে বিবাহবার্ষিকী, সন্তানের জন্মদিনের আনন্দের মাঝে শূন্যতা থেকেই যায়। সমাজের অযাচিত কৌতূহলও তাঁদের নিঃসঙ্গতাকে বাড়িয়ে দেয়।

সীমান্তে সৈনিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে জরুরি চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দিতে হবে। সৈনিকদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে, কারণ তাঁদের ত্যাগের ইতিহাসও দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আমরা যখন সীমান্তে সৈনিকদের সাহসের কথা বলি, তখন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবদানকে ভুলে যাই। দেশের জন্য সৈনিকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা তাঁদের পরিবারের অপেক্ষার শক্তি দ্বারা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন