নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নয়, বরং এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ‘The Moment is Now: Unlocking New Capital for Women's Health Beyond Aid’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার সরকারি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে সামাজিক বা স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
জুবাইদা রহমান জানান, বর্তমান সরকার নারীর স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রজন্মের রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকার মাতৃস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কিশোরীদের পুষ্টি, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সহ নারীর জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে এক লাখ কমিউনিটি হেলথ কর্মী এবং অতিরিক্ত ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং নিরাপদ প্রসবকে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও UNFPA-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশের নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন উদ্যোগের উপস্থাপনা করা হয়। জুবাইদা রহমান জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গে ২৫ কোটি ইউরো রেয়াতি ঋণ অর্থায়নের চুক্তি হয়েছে এবং UNFPA অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ড. দিয়েন কেইতা বক্তব্য দেন এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।