অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মহালয়ার আবাহনে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। শরতের স্নিগ্ধ আবেশ, চণ্ডীপাঠের গাম্ভীর্য ও আগমনী সুরের মূর্ছনায় প্রবাসী বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বর্ণিল মিলনোৎসবের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ‘বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন’ (বিপিএ) সিডনির বিক্রফটের রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে দশম মহালয়া উদযাপন করে। অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মিলনমেলা তৈরি হয়। আয়োজনে সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামী মঞ্চায়ন পরিচালনা করেন। চণ্ডীপাঠ পরিবেশন করেন জ্যোতি বিশ্বাস এবং তবলায় সহযোগিতা করেন জন্মেজয় রায়।
অন্যদিকে, ‘অস্ট্রেলিয়ান বাঙালি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন’ (আভা) ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার ব্ল্যাকটাউনের মারায়ং সাউথ পাবলিক স্কুলে দিনব্যাপী ‘মহালয়া ও মেলা ২০২৬’ আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক কমিউনিটি সদস্য অংশ নেন। এই ধরনের উদ্যোগ প্রবাসে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলীয় সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সিডনির ওরিয়ংটনে ‘আগমনী অস্ট্রেলিয়া’র উদ্যোগে মহালয়া উদযাপিত হয়েছে, যেখানে চণ্ডীপাঠ, স্তোত্রপাঠ ও আগমনী সংগীতের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা ধ্বনিত হয়। সংগঠনটি দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা ও সরস্বতীপূজাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রবাসে বাঙালি ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছে।
মহালয়ার এই আয়োজন সিডনিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের নিজস্ব ভাষা, সংগীত, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। পারিবারিক অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ঐতিহ্য জীবন্ত উত্তরাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা নিয়ে মহালয়া প্রবাসে বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে বহমান রাখার একটি অনন্য উপলক্ষ হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।