শুভ মহালয়া ও দেবীপক্ষের পুণ্যলগ্নে মানুষের চিন্তা-ভাবনা থেকে যাবতীয় অশুভ ও আসুরিক ভাব দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ বার্তা তুলে ধরেন।
দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, আজকের এই শুভ দিনটি কেবল দেবীপক্ষ ও মা দুর্গার আগমনবার্তার সূচনা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও অন্তরের কলুষতা দূর করার এক বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। তিনি বলেন, "মানুষের মন ও চিন্তা-ভাবনার মধ্যে যেন কোনো নেতিবাচকতা, বিদ্বেষ, বিভেদ বা অসুর ভাব স্থান না পায়—সেটিই মহালয়ার অন্তর্নিহিত শিক্ষা।"
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ত্রিবেদী সমগ্র মানবজাতিকে একটি অভিন্ন পরিবারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দেবী দুর্গার চরণে বিশ্বশান্তি, সৌহার্দ্য ও সার্বিক মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা জানান।
তিনি সমাজে অন্যায়, অবিচার ও সংকীর্ণতা দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ অটুট থাকার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত ও চণ্ডী বন্দনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
আবেগঘন কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে হাইকমিশনার বলেন, "শৈশব থেকেই কলকাতায় ভোরবেলা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই অবিস্মরণীয় ও গম্ভীর কণ্ঠের মহালয়া ও চণ্ডীপাঠ শুনে দিন শুরুর স্মৃতি আজও অমলিন।" তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও সুখ কামনা করেন।