লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বাবুত তাকওয়া নামক একটি কওমি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থী আদনানকে মারধর ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন নেতা মাওলানা হাবিবুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে আদনানকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে এবং তার মাথায় আঘাত করা হচ্ছে। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার দৃশ্যও দেখা যায়। এই ঘটনায় আদনানের মা-বাবা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তারা অভিযোগ করেছেন, সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে এটি মেনে নেওয়া যায় না। অপরদিকে, মাওলানা হাবিবুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পলাতক রয়েছেন।
মাদ্রাসাটিতে শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকেরা দাবি করেছেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে শাসনের নামে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক নীরবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসাটি ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে। মাওলানা হাবিবুল্লাহ ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।