দুই বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের সন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে। তবে জুলাই মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
বর্তমানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে গ্রেপ্তার থাকা সাবেক অন্তত ৭ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে এখন পর্যন্ত ৭ মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনের নাম রয়েছে, যাদের অধিকাংশই পলাতক রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাত্রা শুরু করে। এরপর দুই বছরে দুই ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা, আওয়ামী লীগ আমলের গুম ও হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার চলে।
এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, ৪৪টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ২৬টি মামলা বিচারাধীন। রায় ঘোষণা হয়েছে ৭ মামলায়, যেখানে ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামানসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, "প্রথম সাজা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, কিন্তু অন্যান্য প্রসিকিউশনে কী হবে তা উল্লেখ নেই। আইন অনুযায়ী সাজাটা হচ্ছে।"
এদিকে, দেড় বছর ধরে গ্রেপ্তার থাকা অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করতে পারেনি প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আমীর হোসেন আমু, শাহজাহান খান, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান ও তৌফিক ইলাহী।
সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, "সংবিধান অনুযায়ী একজন মানুষকে বিনা বিচারে অগণিত সময় আটক রাখা যায় না। যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে ২০২৪ সালের ঘটনার এজাহারগুলোতে এক বছর কেন লাগবে?"
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম জানান, "আসামিদের তদন্ত প্রতিবেদন আমরা হাতে পেয়েছি। ফরমাল চার্জ প্রস্তুত রয়েছে।" রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে মাহবুল আলম হানিফের মামলাটি এবং বিচার শেষের দিকে জয়, পলক, আনিসুল হক, জিয়াউল আহসানসহ আরও কিছু মামলা।