কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-য়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে যে, এআই মডেলগুলো শিগগিরই নিজে থেকেই অনুলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অ্যানথ্রপিকের মতে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই নিজেই একটি বটনেট তৈরি করতে পারে, যা দ্রুত বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, অ্যানথ্রপিক তাদের পণ্যের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে এআই পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হতে পারে।
কিছু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এ ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এআই মডেলগুলো এত বড় যে, সেগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে সরানো কঠিন হবে।
অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরির জন্য কিছু কাজ করতে সক্ষম। তবে পুরো প্রক্রিয়া এখনও নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্বল্পমূল্যের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা একত্র করতে পারে এসব মডেল। তবে, এ ধরনের এআইকে বন্ধ করা কঠিন হবে, কারণ এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো একক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা না থাকলে বন্ধ করার মতো নির্দিষ্ট একটি জায়গা থাকবে না।
বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ের বিকাশ মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের রিপোর্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন। তিনি বলেন, ‘সস্তা টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি, এতেই নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয় না।’
অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি জানান, এআই কার্যত একটি ‘ওয়ার্মে’ পরিণত হতে পারে, যা নিজে থেকেই অনুলিপি তৈরি করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অ্যানথ্রপিকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ছোট আকারের এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
গবেষক জেসিকা জি বলেন, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা উচিত।