বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
সুদান-মিশর সীমান্তে স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় ৭২ শ্রমিক নিহত জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৩৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১; আহত ১১ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত, দুই নিহত রিয়াদের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ, আগুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হুতিদের হামলায় সৌদি বিমানবন্দরে নিহত ১২, যুদ্ধের আশঙ্কা রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা, হুতিদের হুঁশিয়ারি

ইয়েমেনে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে হুতিরা, সৌদি জোটের পাল্টা হামলার আশঙ্কা।

ইয়েমেনে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা, হুতিদের হুঁশিয়ারি

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পর, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ভবনটিতে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ'র তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন। তবে হামলাটি কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে, হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে অবস্থানরত কর্মী-বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরই সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হামলায় সানার ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া রাস ঈসা বন্দরে ইয়েমেনের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক ও হোদেইদা প্রদেশের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, হুতিরা তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোকে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইয়েমেন অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি রয়েছে, ফলে সৌদি হামলা চালালেও তেলের মজুত বা সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।

তবে, জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইয়াহিয়া সারি জানান, সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছেন হুতি যোদ্ধারা।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরামকোর সদর দফতর এবং কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় সৌদি আরব প্রতিহত করেছে। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়, তবে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩শ' জনের বেশি আহত হন। পরপর এসব হামলার পর সৌদি আরব ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। মঙ্গলবারও (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সৌদি মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার এক বৈঠকে হুতিদের হামলার জন্য তাদের ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে সতর্ক করেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, গোষ্ঠীটি ‘খুব খারাপ আচরণ করছে’। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হস্তক্ষেপ করতে এবং সহযোগিতার আহ্বান জানাতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন