বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় বিনিয়োগ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট এবং ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবের কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন নীতি সহায়তা প্রদান করছে। তবুও দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগে খরা দেখা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে নিট বিদেশি বিনিয়োগ আগের তিন মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারি-মার্চে নিট এফডিআই ছিল ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বেড়ে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন সরকারের নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করছেন, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিলম্বের কারণে জুন প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, "এফডিআই ওঠানামা করবেই, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার বিষয়।" তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহে বাধা আসতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।
গবেষকদের মতে, দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো এবং বিদেশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।