ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জেন-জিদের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশ আটক করে। পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। গুরুগ্রাম থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকেও আটক করা হয়েছে।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলছে ধরপাকড়, যেখানে সশস্ত্র পুলিশের তল্লাশি চলছে। ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শত শত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ অন্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার থেকেই দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২৩ হাজারের বেশি সদস্য পুরো শহরে মোতায়েন রয়েছেন। মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথের চারপাশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, “এটা কোনো সাধারণ অবরোধ নয়। পুরো শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “একে কি গণতন্ত্র বলে?”
বিক্ষোভের কারণ হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে।