প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। তিনি আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭টি জেলায় ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন তিন থেকে আট বিঘার মধ্যে থাকবে।
প্রতি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।