বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, দেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে উৎপাদনের পাশাপাশি নিজস্ব নকশা এবং উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শুধুমাত্র উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব ধারণা এবং নকশা তৈরি করে বিশ্ববাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘৩ডি ইন বিডি—ডিসকভার, ডিজাইন, ডেভেলপ’ ধারণাকে বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১০০ জন ডিজাইনার এক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নকশা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, “একটি ধারণা আবিষ্কার থেকে শুরু করে সেটিকে নকশায় রূপ দেওয়া এবং পরে পণ্যে পরিণত করার পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশেই শক্তিশালী করতে হবে।” তিনি গবেষণা, উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব, ব্র্যান্ডিং ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন।
‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণার মাধ্যমে গ্রামের নিজস্ব সম্পদ ও কারুশিল্পকে আধুনিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণা বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে দেশটি উৎপাদন করতে পারে। এখন বাংলাদেশের নিজস্ব নকশা ও পণ্য উন্নয়নের সক্ষমতাও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধি আলবার্তো জিওভানেত্তি, ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ এস কে সাইফুর রহমান ও লার্ন লাইটের প্রতিষ্ঠাতা অদিতি চৌধুরীসহ বিভিন্ন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
পরে ‘ভিশন টুয়ার্ডস ডিজাইনড ইন বাংলাদেশ: বিল্ডিং আ গ্লোবাল ক্রিয়েটিভ এক্সপোর্ট ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনের এ আয়োজনে ঐতিহ্য, ফ্যাশন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। আয়োজকেরা ভবিষ্যতে ডিজাইনার, কারিগর, উৎপাদক ও বাজারকে যুক্ত করে একটি স্থায়ী সৃজনশীল অর্থনীতির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।