জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটনের ভূমিকা আবিষ্কারের জন্য জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বুধবার নোবেল কমিটি এই ঘোষণা দেয়।
চলতি বছর এটি তৃতীয় পুরস্কার। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার যথাক্রমে চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞানের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। রসায়ন নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিঙ্কে বলেন, ‘এবারের পুরস্কারটি মৌলিক রসায়নের ওপর দেওয়া হয়েছে। অনেক অণুর দুটি ভিন্ন রূপ থাকে—ঠিক আমাদের দুই হাতের মতো। এগুলো দেখতে একই রকম এবং একটি অপরটির আয়নার প্রতিবিম্বের মতো হলেও এরা কিন্তু পুরোপুরি এক নয়।’
গ্রিক শব্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ধরনের অণুকে বলা হয় কাইরাল। সুইডেনের উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বযুদ্ধের কারণে মাঝে কয়েকবার এই আয়োজন বন্ধ ছিল। পেশায় রসায়নবিদ নোবেল ১৯ শতকে ডায়নামাইটের মতো বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার করে বিশাল সম্পদের মালিক হন। অন্যদিকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারটি আরও পরে যুক্ত হয়, যার অর্থায়ন করে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পদার্থবিজ্ঞান, সাহিত্য কিংবা শান্তির মতো আলোচিত ক্যাটাগরিগুলোর ছায়ায় ঢাকা পড়লেও, রসায়নের নোবেল পারমাণবিক বিভাজন ও জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারকে সম্মান জানিয়ে আসছে।
গত বছর সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াঘি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক নামের বিশেষ আণবিক গঠন উদ্ভাবন করেন, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় কাজে আসছে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাভ বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে স্টকহোম সিটি হলে একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন থাকবে।
সম্মাননার পাশাপাশি বিজয়ীরা যৌথভাবে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) পাবেন। উল্লেখ্য, নোবেল পুরস্কারের মধ্যে একমাত্র শান্তি পুরস্কারটি সুইডেনের বদলে আলাদাভাবে নরওয়ের অসলো থেকে দেওয়া হয়।