নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহম্মেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে, যারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।
শিক্ষার্থীরা বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বোর্ড ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩০০ ও ৪০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, টিফিন সরবরাহের মান নিয়ে অভিযোগ তুলে তারা বলেন, ৯ টাকা ৫০ পয়সার টিফিন সরবরাহ করে ১৮ টাকা মূল্যের টিফিন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ের সরবরাহকৃত টিফিন অস্বাস্থ্যকর এবং ক্রীড়া ফান্ড ও আইসিটি ফান্ডের অর্থে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন।
অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনের খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন।
জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। তদন্ত চলাকালে জাসমিন আহম্মেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।