গাজার যুদ্ধের কারণে জন্মের পর থেকেই স্বাভাবিক শৈশব হারিয়েছে বিসান। প্রায় আড়াই বছর পর মায়ের কাছে ফিরে এসেছে সে, তবে মাকে চিনতে পারেনি বিসান।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় হামলার ফলে বিসানের এক বোন নিহত হন এবং তার অন্তঃসত্ত্বা মা সুন্দুস আল-কুর্দ গুরুতর আহত হন। নির্ধারিত সময়ের ৬ সপ্তাহ আগে জন্ম নেওয়া বিসানকে ইনকিউবেটরে রেখে মিসরে পাঠানো হয়।
মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত মার্চে জাতিসংঘের সহায়তায় বিসানসহ ১১ শিশুকে গাজায় ফিরিয়ে আনা হয়। ফিরেই বিসান মাকে চিনতে না পারলেও ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
বিসানের মা সুন্দুস বলেন, "বিসান গাজায় ফেরার পর যে-ই তার কাছে আসত, তাকেই মা বলে ডাকত। এখন আমি তাকে খাওয়াই, পোশাক বদলে দিই, তার সঙ্গে খেলি।"
যুদ্ধের কারণে বিসানের জীবন এখন আগের মতো নেই। মিসরে তার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু গাজায় তাদের ঠিকানা এখন একটি তাঁবু। মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুন্দুস আরও জানান, "গাজায় এসে প্রথমবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বিসান কয়েক মিনিটের জন্য চুপ হয়ে গিয়েছিল।" বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যুদ্ধের কারণে গাজার শিশুদের মানসিক বিকাশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।