ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দলগুলো। মঙ্গলবার দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ প্রায় ২৬০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অনিয়ম হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখরিত ছিল দিল্লির রাজপথ। প্রায় এক কিলোমিটার পথ মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিরোধীদলের নেতা-কর্মীরা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনার নন, তিনি বিজেপির নির্বাচন কমিশনার।’
বিরোধীদলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একইসাথে ভোটার তালিকা ও নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশের পর কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুল। মোদি ও অমিত শাহ যা বলেন, তিনি তাই করেন। এতে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানই শেষ হয়ে যাবে।’
বিক্ষোভের সময় পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ান রাহুল গান্ধী। পরে কমিশন কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের আটক করে পুলিশ।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার রাতে দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় আবারও তাদের আটক করা হয়।
এদিকে বিরোধীদের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।