প্রিমিয়ার লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে অতীতের আর্থিক অনিয়মের জন্য শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিবিসি স্পোর্টকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য জানায়।
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন। তবে সিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। একই সঙ্গে, সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি (এসআরএ) কমিশনের অনুসন্ধানগুলো খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শীর্ষ ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, সিটির আপিল ব্যর্থ হলে শাস্তি এমনভাবে দেওয়া উচিত, যাতে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায় এবং ভবিষ্যতে ক্লাবটির ক্ষমতা সীমিত হয়।
প্রিমিয়ার লিগের অন্তত চারটি ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদে এমন ধারণা রয়েছে যে, একবার পয়েন্ট কেটে দেওয়াও যথেষ্ট শাস্তি হবে না। তবে সিটির জন্য কী ধরনের শাস্তি উপযুক্ত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ক্লাবের কর্মকর্তা বলেছেন, সিটির কাছ থেকে তাদের জেতা শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া উচিত। তবে ট্রফিগুলো অন্য কোনো ক্লাবকে দেওয়ার বিষয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। বরং সিটির কাছ থেকে শিরোপাগুলো কেড়ে নিয়ে খালি রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
লিগে শাস্তির ধরন নিয়ে মতপার্থক্যের আরেকটি উদাহরণ দেখা গেছে। কিছু ক্লাবের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, একটি মৌসুমে শাস্তি দেওয়া হলে সেটি সিটির জন্য ‘পথের সামান্য বাধা’ হয়ে দাঁড়াবে।
এ কারণে প্রিমিয়ার লিগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তি একাধিক মৌসুমে ভাগ করে দেওয়া উচিত। এতে সিটির শীর্ষ লিগে ফিরে আসার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
এক কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় সিটি যদি আগামী জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে খেলোয়াড় কিনতে বা বিক্রি করতে পারে, তাহলে সেটি হবে ‘অদ্ভুত’।
কিছু ক্লাব জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তারা ‘অন্ধকারে’ রয়েছে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতির জটিলতা এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ক্লাবগুলোর মধ্যে ‘সহানুভূতি’ ও ‘বোঝাপড়া’ রয়েছে।
আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়েও একটি প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে, যা একটি ক্লাবের সূত্রের মতে ‘যথেষ্ট যুক্তি’ রয়েছে।