রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে ইউএস ইন্টেলিজেন্স সতর্ক করেছে।

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

সৌদি আরব এখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি বলে সতর্ক করেছে ইউএস ইন্টেলিজেন্স। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া গোপন নথিতে এ বিষয়ে মূল্যায়ন উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

এই তথ্যের পর সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব গোপন নথি জমা দেওয়া হয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেছে, এমন নিশ্চয়তা গোয়েন্দা মূল্যায়নে পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে কয়েক হাজার কোটি ডলারের পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে। তবে উদ্বেগের কারণ হলো, এর আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা ৫ শতাংশের নিচে রাখার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তীতে অতিরিক্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

সিনেটরদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন আগের নীতির তুলনায় শিথিল বিধিনিষেধ গ্রহণ করছে এবং সৌদি আরবের দাবির কাছে ছাড় দিচ্ছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এড মার্কি বলেন, সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভর করা উচিত নয়।

সৌদি সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান দাবি করেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি হবে ‘শান্তিপূর্ণ’ এবং এটি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কোনো পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

সৌদি আরবের পরমাণু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও একই পথে যাবে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্য শুধু জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নয়; এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং রিয়াদকে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়ানো থেকে দূরে রাখাও উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞাপন