শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

বাংলাদেশের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনায় ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?

বাংলাদেশের ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণায় ভারতের উদ্বেগের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনায় ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?

বাংলাদেশ সরকারের ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার ঘোষণার পর ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভারতের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ‘অবভিয়াসলি, ইন্ডিয়া উইল টেক নেসেসারি অ্যাকশনস টু প্রটেক্ট ইটস ইন্টারেস্টস।’ তবে ঢাকার ঘোষণায় কোনো চুক্তি বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এই পর্যালোচনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ কী, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বন্দর, ট্রানজিট, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ভারতের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু এই ব্যবহারের বিনিময়ে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যুৎ চুক্তির ক্ষেত্রে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিদ্যুতের দাম প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ৩৯.৭% বেশি।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নন-ট্যারিফ বাধার অভিযোগ করেছেন, যা পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। পুরোনো চুক্তির পর্যালোচনা করার সময় নতুন দরকষাকষির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করে জানতে চায়, পূর্ববর্তী চুক্তিতে তারা কতটা লাভবান হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পাবে। ভারতও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলছে। তবে, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো চুক্তি বাতিল করেনি বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়নি।

বিজ্ঞাপন