নোয়খালীতে সেতুর নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে এলজিএডির বেগমগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে রাঙামাটি জেলায় বদলি করা হয়েছে।
প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, তিনি দুই মাস আগে বেগমগঞ্জে যোগদান করেন। ব্রিজের কাজে অনিয়মের খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে উপস্থিত থেকে খারাপ মানের কাজগুলো ভেঙে অপসারণ করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার তাকে রাঙামাটি জেলায় বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস.এম মহসীন বরখাস্তের বিষয়টি জানতেন না বললেও পরে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্রিজের কাজের অনিয়ম তদন্তে একটি এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এএসএম মহসীন বলেন, "অফিস আদেশ হাতে পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে ব্রিজটি দেখে এসেছি। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। ঠিকাদারকে দিনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এলজিইডি নোয়াখালী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম দেখা গেছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে স্ল্যাবের কাজে নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।