তেহরানের রাতের আকাশে সম্প্রতি দেখা গেছে একগুচ্ছ অদ্ভুত আলো। এই আলো কখনো স্থির, কখনো ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আলোটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন এটি ড্রোন, আবার কেউ যুদ্ধবিমান বলে মনে করছেন।
ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল, নানা রঙের আলো, তবে এর আকার, উচ্চতা বা গতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। ইরানের কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে কিছু জানায়নি এবং এটি কোনো হুমকি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ইউএফও শব্দটি সাধারণত এমন বস্তুর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেটি শনাক্ত করা যায়নি।
১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তেহরানের আকাশেও দেখা গিয়েছিল একটি অদ্ভুত আলো। তখন ইরানের বিমানবাহিনী একটি যুদ্ধবিমান পাঠায়, যা বস্তুটির কাছে পৌঁছানোর সময় পাইলটের যন্ত্রপাতি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। পরে আরেকটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হলে, সেটি রাডারে বস্তুটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
১৯৭৬ সালের ঘটনায় নীল, সবুজ, লাল ও কমলা রঙের আলো ঝলকানোর কথা উল্লেখ ছিল। মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নথিতে সেই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের নতুন ভিডিওগুলোর সঙ্গে ১৯৭৬ সালের ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বর্তমানে তেহরানে যুদ্ধের উত্তেজনা বিরাজমান। এই পরিস্থিতিতে রাতের আকাশে রহস্যময় আলো দেখা যাওয়ার ঘটনা মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে ইউএফও বা ভিনগ্রহের যান হিসেবে এটি নিশ্চিত করার মতো কোনো প্রমাণ নেই। এটি হতে পারে ড্রোন, বিমান, একাধিক উড়ন্ত বস্তু অথবা অন্য কিছু।
এখন পর্যন্ত নতুন ভিডিওটির রহস্যের সমাধান হয়নি। কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা আরও পরিষ্কার ভিডিওর অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। ততদিন পর্যন্ত তেহরানের আকাশের এই আলো রহস্যই রয়ে যাবে।