মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের হুতিদের শক্তি বৃদ্ধির পেছনের কারণ

ইয়েমেনের হুতিদের সামরিক শক্তির বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।

ইয়েমেনের হুতিদের শক্তি বৃদ্ধির পেছনের কারণ

ইয়েমেনে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। এক সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী ধর্মীয় ও সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হুতিরা এখন একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে হুতিরা উত্তর ইয়েমেনে জায়েদি শিয়া মুসলিমদের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে ছয় দফায় যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের সামরিক শক্তির পরিচয় দেয়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে হুতিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়াতে শুরু করে।

হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করে। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বারা শিবান জানান, হুতিদের অগ্রগতি হিজবুল্লাহর সহায়তার ফলে সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, 'হিজবুল্লাহর সহায়তা না থাকলে হুতিরা হয়তো পাহাড়ি এলাকায় সীমিত পরিসরে থাকা ছোট মিলিশিয়াই হয়ে থাকত।'

দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার। তবে ২০১৭ সালে কাতার সরে যাওয়ার পর সৌদি ও আমিরাত-সমর্থিত পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

বারা শিবান আরও জানান, 'কাগজে-কলমে জোটের লক্ষ্য ছিল ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করা, কিন্তু বাস্তবে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ তৈরি হয়।' এর ফলে হুতিরা সুবিধা পায় এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিতে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় লড়াই আবার শুরু হয়েছে। হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক সক্ষমতা হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, যা ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজে হামলা চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন