যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। সম্প্রতি, হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
হুতিরা বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এই হামলার ফলে সৌদি আরবের একাধিক শহরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত কয়েকদিনে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খামিস মুশাইত শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হুতিরা সতর্ক করে জানায়, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এটি তাদের কাছে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিরা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে নিজেদের দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। ২০২২ সালে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির ফলে ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বড় ধরনের আন্তসীমান্ত হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
হুতিদের হামলার পেছনে রয়েছে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, যা ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। হুতিরা ইয়েমেনে নিজেদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সৌদি আরবের সামরিক চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।
হুতিদের লক্ষ্য হলো—ইয়েমেনে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সৌদি আরবের কাছ থেকে ছাড় আদায়, এবং আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানো। এ ছাড়া, তারা ইরানের সমর্থন অব্যাহত রাখতে চায়। তবে, হুতিদের কর্মকাণ্ডে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কতটা, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।