বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বার প্রস্তাব পাস

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব পাস করেছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বার প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব পাস করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ২২০টি এবং বিপক্ষে ২০৪টি ভোট পড়ে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এটি তৃতীয়বারের মতো ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। আগের দুটি প্রস্তাবের মতো এবারও রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে কিছু সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে 'ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে' ভোট দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সেটিতে ভেটো দিতে পারেন।

ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সেথ মোলটন, যিনি ইরাক যুদ্ধে মেরিন সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এই প্রস্তাব এগিয়ে নেন। তিনি বলেন, 'কংগ্রেসের উচিত সংবিধান অনুযায়ী কঠিন প্রশ্ন তোলা, কোনো যুদ্ধপ্রবণ প্রশাসনের অধীনস্থ হয়ে থাকা নয়।'

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ইরানকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেন সামরিক সক্ষমতা সরিয়ে নিতে চান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ভোটটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের পেছনে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে।

রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভাজন দেখা গেলেও, জুলাইয়ে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানদের মধ্যে ছিলেন আইওয়ার জাকারি নান, দক্ষিণ ক্যারোলিনার ন্যান্সি ম্যাস, মিশিগানের টম ব্যারেট এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন