বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধীদের নতুন নিশানা: বিদেশি নাগরিকদের কার্যকলাপ

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধীদের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধীদের নতুন নিশানা: বিদেশি নাগরিকদের কার্যকলাপ

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাইবার অপরাধীদের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ দিনের ব্যবধানে লাওস, পাকিস্তান, চীনসহ ৫ দেশের প্রায় ৩০০ নাগরিকের ১০০ ল্যাপটপ এবং ২ হাজার আইফোন নিয়ে সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সংঘবদ্ধ চক্রটি অনলাইনে সস্তায় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বিক্রির নামে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

পুলিশের মতে, অপরাধীরা প্রশাসনের নজর এড়ানোর জন্য ঢাকাকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো পর্যটন শহরগুলো বেছে নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের খুলশীতে ৬৭ বিদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫ জন লাওসের নাগরিক।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার শামীম হোসেন জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার অপরাধীদের ওপর চাপ বাড়ায় তারা বাংলাদেশে আস্তানা গাড়ছে। তিনি বলেন, ‘লাওস, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম এয়ারলাইন স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলছে। তারা বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

এক সপ্তাহ আগে কক্সবাজারে তিন শতাধিক বিদেশির হোটেল ভাড়া নিয়ে একই অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আটক হন ছয় চীনা নাগরিক। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ জানান, দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, ডিজিটাল অপরাধে জড়িত বিদেশিরা নয়া কৌশল হিসেবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আস্তানা গড়ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসাইন জানান, ঢাকায় অপরাধ হলে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত আসে, কিন্তু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তা হয় না। এই কারণে অপরাধীরা এসব জায়গাকে বেছে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটন কিংবা ব্যবসার পরিচয়ে আসা বিদেশিরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন