ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কারণে রিয়াদ কঠিন চাপে রয়েছে। সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও, বড় ধরনের অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখলের পর লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে, যা সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন, যদিও কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো কঠিন হবে। দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, দুর্গম ভূখণ্ড এবং গেরিলা কৌশল তাদের মোকাবিলা জটিল করে তুলতে পারে। ইয়েমেন-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, 'হুতিদের অগ্রগতি এবং ধারাবাহিক হামলার পর নিষ্ক্রিয় থাকা রিয়াদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।'
সৌদি আরবের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক সমাধান বা সীমিত প্রতিক্রিয়া। প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ঝুঁকি। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনজিয়া বিয়ানকো বলেন, 'সৌদি আরব সামরিকভাবে সংঘাত বাড়াতে পারে, কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তাও অনিশ্চিত হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ সংকটের কারণে ওয়াশিংটন নতুন সামরিক প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহী নয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় ইয়েমেনের তায়েজে ৩ জন নিহত হয়েছে এবং সৌদি আরবের ৩টি শহরে হুতিদের হামলায় ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে।
হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে, যেখানে তারা বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে। গত ৫ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ৩ শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।